ফোরক্বান মিডিয়া
ফোরক্বান মিডিয়া

হযরত ইব্রাহিম আঃ এর জিবন কাহিনী

  • পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে - 7 January, 2019, Monday
  • 3281 বার দেখা হয়েছে

  • অনেক অনেক দিন আগের কথা . কোন এক পল্লীতে আযর নামে একজন খুব প্রসিদ্ধ লোক বাস করত ।
    সে মূর্তি বিক্রি করত । সেই পল্লীতে অনেক বড় বড় মন্দির ছিল এবং মন্দিরে অনেক মুর্তি ছিল । লোকেরা সেই মূর্তিগুলোকে প্রণাম করত । আযরও মূর্তিগুলোকে প্রণাম করত ও তাদের পূজা করত ।

    ০আযরের পুত্র০

    আযরের একটি অত্যন্ত সুবোধ ছেলে ছিল ।
    তার নাম ইব্রাহীম ।ইব্রাহীম দেখতেন যে. লোকেরা মূর্তিকে পূজা ওপ্রণাম করে । ইব্রাহীম জানতেন যে .মূর্তিগুলো পাথরের তৈরী. তারা কথা বলতে পারে না ও কথা শুনতে পায় না । তারা কারো উপকার ও অপকার করতে পারেনা । তিনি দেখতেন .মুর্তির গায়ে মাছি বসে আছে . অথচ তারা তাড়াতে পারে না । তিনি আরো দেখতেন .ইদুরের দল এসে মুর্তির সামনের রক্ষিত খাবার খেয়ে ফেলছে . কিন্তু তারা প্রতিরোধ করতে পারছেনা । এসব দেকে . ইব্রাহীম মনে মনে ভাবতেন . মানুষ মূর্তিকে সিজদা করে কেন?
    তিনি আপন সত্তাকে প্রশ্নঃ করতেন .মানুষ মুর্তির কাছে আবেদন করে কেন?

    ০ইব্রাহীম আঃ উপদেশ০

    ইব্রাহীম আঃ তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করতেন . আব্বাজান .কেন আপনি মূর্তি পূজা করেন ও তাদেরকে প্রণাম করেন এবং তাদের কাছে নিজের প্রয়োজন পেশ করেন? অথচ মূর্তিগুলো শুনেনা ও কথা বলতে পারেনা এবং কারো উপকার ও অপকার করতে পারে না । কেন তাদের সামনে ভোগ্যদ্রব্য রাখেন? তারাতো পানাহার করতে পারে না । আযর এ সব শুনে ক্ষুব্দ হত। কিন্তু বুঝার চেষ্টা করত না । ইব্রাহীম আঃ তাঁর জাতিকে উপদেশ দিতেন । কিন্তু তারাও বুঝার চেষ্টা না করে তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হত। তাই তিনি মনে মনে স্থির করলেন . উত্‍সবের দিন মুর্তিগুলো ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলবো । তখন তারা প্রকৃত বিষয় উপলব্দি করতে সক্ষম হবে ।

    ০ইব্রাহীম মুর্তি ভাঙ্গবে ০

    উত্‍সবের দিন এল ।ফলে লোকেরা খুব খুশি হল । শিশু বৃদ্ধ সকলে উত্‍সবে যাওয়ার জন্য বের হল । ইব্রাহীমের পিতা যাওয়ার সময় ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসা করলেন . তুমি কি আমাদের সঙ্গে যাবে না? ইব্রাহীম উত্তর দিল . আমি অসুস্থ । সকলে চলে গেল . কিন্তু ইব্রাহীম বাড়িতে থেকে গেল । অতঃপর ইব্রাহীম মন্দিরে গেল এবং মূর্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে বলল . কী ব্যাপার .কথা বলছোনা যে ? আমার কথা শুনতে পাচ্ছো না ? এই তো ভোগ্যদ্রব্য । খাচ্ছোনা যে ?
    পাথরের মূর্তিগুলো নিরবে দাড়িয়ে রইল . কিছুই বলতে পারলনা । ইব্রাহীম বলল . কী হলো .কথা বলছো না যে ? কিন্তু তারা পুর্বের ন্যায় চুপ মেরে রইলো .কোন কথা বলল না । তখন ইব্রাহীম ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে কুঠার হাতে নিল এবং মূর্তিগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিল । আর বড় মূর্তিটিকে অক্ষম রেখে তার গলায় কুঠার ঝুলিয়ে দিল

    ০এই অপকর্ম কে করেছে?০

    লোকেরা উত্‍সব থেকে ফিরে এসে মন্দিরে প্রবেশ করল এবং উত্‍সবের দিন হিসাবে মূর্তিকে প্রণাম করতে চাইল । কিন্তু তারা ভিতরে ঢুকে অবাক ও হতবুদ্ধি হল এবং ক্ষিপ্ত ও অনুতপ্ত হয়ে বলল. আমাদের উপাস্যদের সাথে এই অসদাচরণ কে করল? কেউ কেউ বলল. আমরা ইব্রাহীম নামের এক যুবককে তাদের সমালোচনা করতে শুনেছি ।

    অতঃপর তারা জিজ্ঞাসা করল . হে ইব্রাহীম আমাদের উপাস্যেদের সঙ্গে এরূপ আচরণ কি তুমি করেছ? ইব্রাহীম উত্তর দিল আমি না .বরং তাদের এই বড়টি তা করেছে ।যদি সে কথা বলতে পারে তাহলে তাকে জিজ্ঞাসা করে দেখো। কিন্তু লোকেরা জানত. পাথরের মূর্তি কথা বলতে ও কথা শুনতে পারে না । তারা এটাও জানত যে . বড় মূর্তিটিও পাথরের তৈরী। সে নড়াচড়া করতে ও মূর্তিগুলোকে ভাঙ্গতে পারে না । ফলে ইব্রাহীমকে বলল . তুমিতো জানো যে . মূর্তি কথা বলতে পারে না । তখন ইব্রাহীম বললেন . মূর্তি যখন কারো উপকার বা অপকার করতে পারে না তাহলে তোমরা তার কাছে প্রার্থনা কর কি করে? তোমাদের কি কোন জ্ঞান বুদ্ধি নেই? তখন তারা লজ্জায় চুপ মেরে গেল

    ০শীতল অগ্নি০

    বিক্ষুব্দ . জনতা পরামর্শে মিলিত হয়ে বলল . আমাদের এখন কী করণীয় ? ইব্রাহীমতো মূর্তি ভেঙ্গে আমাদের উপাস্যদের অপমান করেছে । উত্তেজিত . জনতা জানতে চাইল . ইব্রাহীমের কী শাস্তি হবে? তার কী প্রতিদান হবে ? জওয়াব এল . তাকে জ্বালিয়ে দিয়ে তোমাদের উপাস্যদের প্ক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করো। অবশেষে তাই করা হল। আগুন জ্বালিয়ে তাতে ইব্রাহীমকে নিক্ষেপ করা হল । কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার সাহায্যের জন্য আগুনকে নির্দেশ করে বললেন । হে আগুন ইব্রাহীমের প্রতি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও । তাই হল . আগুন ইব্রাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে গেল । ইব্রাহীমকে আগুনের মধ্যে আরামে ও আনন্দে দেখে লোকেরা হতবাক ও হতভম্ব হল ।

    ০আমার প্রতিপালক কে?০

    এক রাত্রে ইব্রাহীম আঃ এক উজ্জ্বল তারকা দেখে ভাবলেন . ইনিই আমার প্রতিপালক । কিন্তু যখন তারকাটি অদৃশ্য হল . তখন তিনি সিদ্ধান্তে পৌছলেন . না এ আমার প্রতিপালক নয় । তারপর যখন চন্দ্র দেখতে পেলেন তখন তিনি ভাবলেন . ইনিই আমার প্রতিপালক হবেন । কিন্তু চন্দ্র যখন অদৃশ্য হল তখন তিনি সিদ্ধান্তে পৌছলেন যে এ আমার প্রতিপালক নয় । ভোরে যখন সূর্য উদিত হল তখন তিনি ভাবলেন । ইনিই হবেন . আমার প্রতিপালক । কারণ . ইনি সবার চেয়ে বড় .

    কিন্তু সন্ধায় যখন সূর্য অস্তমিত হল তখন তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে ,এ আমার প্রতিপালক হতে পারে না । বরং এগুলোর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই আমার প্রতিপালক । কেননা আল্লাহ চিরন্ঞ্জীব . তাঁর মৃত্যু নেই । আল্লাহ চিরস্থায়ী । কখনও অদৃশ্য হতে পারে না . কিন্তু তারকা এমন দুর্বল যে ।প্রভাত তাকে কাবু করে ফেলে ।চন্দ্র এমন দূর্বল যে .সুর্যের আলো তাকে নিষ্প্রভ করে ফেলে । সূর্য এমন দূর্বল যে . রাতের অন্ধকার ও মেঘের ছায়া তাকে দীপ্তিহীন করে দেয় ।অতএব . চন্দ্র .সূর্য ও নক্ষত্র কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবে না .। কেননা তারা সকলেই দুর্বল । একমাত্র আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবেন . । কেননা তিনি চিরন্ঞ্জীব . চিরস্থায়ী ও চিরশক্তিমান ।

    ০আল্লাহ আমার প্রতিপালক ০

    ইব্রাহীম বুঝতে পারলেন যে . আল্লাহই তাঁর প্রতিপালক । কেননা তিনি চিরন্ঞ্জীব . মৃত্যু বরণ করেন না । তিনি চিরস্থায়ী .অদৃশ্য হননা । তিনি চিরশক্তিমান . কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না । ইব্রাহীম আরও বঝলেন যে . চন্দ্রের প্রতিপালক আল্লাহ . সূর্যের প্রতিপালক আল্লাহ এবং বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ । অতঃপর আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহীমকে নবী ও বন্ধু মনোনীত করলেন এবং কওমকে মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করে ।এক আল্লাহর ইবাদত করার আদেশ করলেন .

    ০ইব্রাহীম আঃ এর দাওয়াত০

    ইব্রাহীম আঃ স্বজাতিকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন.এবং মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করে বললেন । তোমরা কিসের পূজা করো? তারা বলল . আমরা কিছু দেব দেবীর পূজা করি। ইব্রাহীম আঃ আবার জিজ্ঞাসা করলেন .তারা কি তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়? কিংবা তোমাদের কোন উপকার বা অপকার করে? তারা বলল . ওসব কিছু না . বরং আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে এরূপ করতে দেখেছি . তখন ইব্রাহীম আঃ বললেন তবে আমি এসবের পূজা করবো না । বরং আমি এ সবের ঘোর বিরোধী । আমি সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের ইবাদত করবো . যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন ।যিনি আমার পানাহারের ব্যবস্থা করেন এবং যাঁর হাতে আমার হায়াত মউত । তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন এবং রোগ হলে আরোগ্য দান করবেন ।কিন্তু মূর্তি সৃষ্টি করতে পারে না । কারও পানাহার যোগাতে পারেনা । কারও অসুস্থতায় সুস্থতা দান করতে পারে না । এবং কারো জীবন মরণও তার হাতে নেই ।

    ০রাজার দরবারে০

    সেই দেশে এক প্রতাপশালী ও জালিম রাজা ছিল। লোকেরা তাকে সিজদা করত । রাজা শুনতে পেল যে . ইব্রাহীম আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করে না । তখন রাজা খুব ক্রুধান্বিত হয়ে ইব্রাহীমকে রাজদরবারে তলব করল । ইব্রাহীম নির্ভয়ে হাজির হলেন । কারণ তিনি শুধু আল্লাহকে ভয় করেন । রাজা জিজ্ঞাসা করল । হে ইব্রাহীম .তোমার প্রতিপালক কে ? ইব্রাহীম আঃ উত্তর দিলেন . আল্লাহ আমার প্রতিপালক । রাজা জিজ্ঞাসা করল । আল্লাহ আবার কে? ইব্রাহীম উত্তর দিলেন. যিনি জীবন মৃত্যুর মালিক । রাজা বলল ।আমিও তো জীবন মৃত্যুর মালিক । তখন রাজা একজন লোককে ডেকে এনে হত্যা করে ফেলল এবং আরেকজন লোককে ডেকে এনে ছেড়ে দিয়ে বলল . দেখলে তো আমি জীবন মৃত্যুর মালিক । একজনকে জীবন দিলাম এবং অপরজনকে মৃত্যু দিলাম ।রাজাটি ছিল একেবারেই বোকা । আর মুশরিকরা এমনই হয়ে থাকে । ইব্রাহীম চাইলেন রাজা ওপ্রজারা বাস্তব অবস্থা উপলব্দি করুক ।তাই তিনি রাজাকে লক্ষ করে বললেন । আমার আল্লাহ তো পুর্ব দিক থেকে সুর্য উদিত করেন । যদি পার .তাহলে তুমি পশ্চিম দিক থেকে উদিত করতো দেখি ? তখন রাজা হতভম্ব হল এবং লজ্জিত হয়ে চুপ মেরে গেল । এবং কোন উত্তর খুঁজে পেলনা ।

    ০পিতার প্রতি দাওয়াত ০

    ইব্রাহীম আঃ পিতাকে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বললেন . আব্বাজান আপনি এমন জিনিসের ইবাদত করেন কেন যা শুনেনা । দেখেনা . এবং কারো উপকার ও অপকার করতে পারেনা ? হে আব্বা আপনি শয়তানের ইবাদত করবেন না ।বরং অতি দয়াময় আল্লাহর ইবাদত করুন । তখন ইব্রাহীমের পিতা ক্রুদ্ধ হয়ে বলল. আমার পথে আমাকে চলতে দাও .নচেত্‍ আমি তোমাকে প্রহার করবো । ইব্রাহীম আঃ অত্যন্ত সহনশীল ছিলেন । ফলে তিনি পিতাকে বললেন . আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক । ইব্রাহীম তার পিতার জন্য খুব আক্ষেপ করলেন .এবং অন্যত্র গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করার ও আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকার মনস্থ করলেন ।

    ০মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা০

    ইব্রাহীম আঃ এর সম্প্রদায় .রাজা ও ইব্রাহীম আঃ এর পিতা সকলেই যখন ক্রুদ্ধ হল . তখন ইব্রাহীম আঃ অন্যত্র সফর করার ও সেখানে আল্লাহর ইবাদত করার ও লোকদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকার মনস্থ করলেন । তাই পিতাকে বিদায় জানিয়ে স্ত্রী হাজেরাকে সঙ্গে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্য রওয়ানা হলেন । তখন মক্কায় কোন নদী নালা ছিলনা এবং সেখানে কোন তরুলতা ও গাছ পালা ছিল না এবং সেখানে কোন মানব ও প্রানী ছিলনা । অর্থাত্‍ আবাসহীন এক মরুময় এলাকা ছিল । ইব্রাহীম মক্কায় পৌছে সেখানে অবস্থান নিলেন । যখন তিনি স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাইলকে রেখে চলে আসার ইচ্ছা করলেন . তখন হাজেরা বললেন । জনাব . আপনি আমাকে খাবার ও পানি বিহীন জায়গায় একাকী রেখে যাচ্ছেন ? এটা কি আল্লাহর আদেশ ? ইব্রাহীম আঃ জবাব দিলেন হ্যা . তখন হাজেরা অকুন্ঠ চিত্তে বলে উঠলেন . তাহলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না ।

    ০ঐতিহাসিক যমযম কূপ০

    ইসমাইল আঃ একবার খুব পিপাসার্ত হয়েছিল । ফলে তার মা তাকে পানি পান করাতে চাইলেন । কিন্তু পানি পাবেন কোথায় ? মক্কা ছিল নদি নালাহীন এক উষর মরুভুমি । হাজেরা পানির খোঁজে সাফা থেকে মারওয়া এবং মারওয়া থেকে সাফা ছোটাছুটি করতে লাগলেন । তখন আল্লাহ ভূমি থেকে পানি উত্‍সারিত করে ইসমাইল ও হাজেরাকে সাহায্য করলেন । ফলে ইসমাঈল ও হাজেরা পানি পান করে তৃপ্ত হলেন । আর অবশিষ্ট পানি যমযম কূপে পরিণত হল । আল্লাহ তায়ালা যমযম কূপে বরকত দান করলেন । আর এটাই হল সেই ঐতিহাসিক যমযম কূপ .যা থেকে অসংখ্য হাজী সাহেব হজ্জ মৌসুমে পানি পান করেন ও পানি নিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যান । তোমার কি যমযমের পানি পান করার সৌভাগ্য হয়েছে ?

    ০ইব্রাহীম আঃ স্বপ্ন০

    কিছু দিন পর ইব্রাহীম আঃ স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাইলের সাথে দেখা করার জন্য মক্কায় এলেন । ইব্রাহীম আঃ তার শিশু পুত্র ইসমাঈলকে দেখে খুব খুশী হলেন । ইসমাঈল ছোট ছিলেন . তিনি খেলা ধুলা করতেন এবং পিতার সাথে বাহিরে যেতেন ।ইব্রাহীম আঃ শিশু ইসমাঈলকে খুব আদর করতেন ।এক রাত্রে ইব্রাহীম আঃ স্বপ্নে দেখেন যে. তিনি ইসমাঈলকে যবেহ করেছেন .

    ইব্রাহীম আঃ ছিলেন সত্য নবী । তাই তাঁর স্বপ্ন ছিল সত্য স্বপ্ন । ইব্রাহীম ছিলেন আল্লাহর দোস্ত । তাই তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আদেশ পালন করার ইচ্ছা করলেন । তিনি ইসমাঈলকে বললেন . আমি স্বপ্নের মধ্যে তোমাকে যবেহ করতে দেখেছি । এখন তোমার অভিমত কি বল? ইসমাঈল বললেন । আব্বা আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা পূর্ন করুন । আল্লাহ চাহেতো আমাকে ধৈর্য ধারণকারীদের মধ্যে পাবেন । অতঃপর ইব্রাহীম আঃ একটি ছুরি নিলেন এবং ইসমাইলকে নিয়ে মিনায় পৌঁছলেন । সেখানে ইসমাঈলকে যবেহ করার জন্য তার গলায় ছুরি চালালেন ।মূলত আল্লাহ পাক দেখতে চেয়েছিলেন । তার বন্ধু তাঁর আদেশ পালন করে কিনা ? বন্ধু কি আল্লাহকে বেশী ভালবাসেন না আপন পুত্রকে ? ইব্রাহীম আঃ আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন । তখন আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের একটি দুম্বাসহ জিব্রাঈল আঃ কে প্রেরণ করে বললেন . এই দুম্বা যবেহ করো . ইসমাঈলকে যবেহ করোনা । আল্লাহ তাআলা ইব্রাহীম আঃ এর কাজকে পছন্দ করে মুসলমানদেরকে ঈদুল আযহার দিন কুরবানী করার আদেশ করলেন ।আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহীম আঃ ও তাঁর পুত্র ইসমাঈলের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষন করুন ।আমিন

    ০কা.বা ঘর নির্মাণ০

    ইব্রাহীম আঃ গিয়ে পুনরায় ফিরে এলেন। তিনি আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে একটি ঘর তৈরী করতে চাইলেন ।কেননা মক্কায় অনেক ঘর ছিল . কিন্তু আল্লাহর ইবাদত করার জন্য সেখানে কোন ঘর ছিল না । ফলে ইসমাঈল পিতার সঙ্গে আল্লাহর ওয়াস্তে একটি ঘর তৈরী করতে চাইলেন । ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আঃ পাহাড় থেকে পাথর বহন করে আনতেন এবং স্বহস্তে কা বা শরিফ নির্মান করতেন । কাজ শেষে তারা উভয়ে আল্লাহর নিকট দু আ করতেন . হে আল্লাহ আমাদের কাজ কবুল করুন . নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত ।

    আল্লাহ তায়ালা তাদের দু আ কবুল করে কাবা শরিফে বরকত দান করেছেন । ফলে আমরা প্রত্যেক নামাযে কা বা অভিমুখী হয়ে দাঁড়াই এবং মুসমানগণ হজ্জ মৌসুমে কা বা শরীফের উদ্দেশ্যে গমন করেন .এবং কা বা শরীফ তাওয়াফ করেন ও সেখানে নামায আদায় করেন । হে আল্লাহ ইব্রাহীম ও ইসমাঈলের মেহনতের ফসল কা বা শরীফে বরকত দান করুন এবং তাদের মেহনত কবুল করুন । আপনি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলের প্রতি শান্তি ও দয়া বর্ষণ করুন এবং মুহাম্মাদ সাঃ এর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন

    

    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন

    আর্কাইভ

    August 2020
    S S M T W T F
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    293031